লিওনেল মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার পথচলা কেমন হবে, এই প্রশ্নের প্রথম উত্তর এল কর্দোবা থেকে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম ম্যাচ।
জয়টা শুধু ব্যবধানের কারণে নয়, খেলার ধরনের কারণেও নজর কেড়েছে। শুরু থেকেই বলিভিয়াকে চাপে রাখে আর্জেন্টিনা। বেশিরভাগ সময় খেলা হয়েছে সফরকারীদের ডি বক্সের আশপাশে। রক্ষণেও দল ছিল গোছানো, প্রতি-আক্রমণে বলিভিয়া তেমন কিছুই করতে পারেনি। দুই অর্ধে দুটি করে গোল করেছে স্বাগতিকরা।
গোলের শুরুটা করেন লাউতারো মার্তিনেস, ১৯ মিনিটে। আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের পাস প্রথমে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। তবে বল কাছেই ছিল। ডি বক্সে ঢুকে একটু সময় নিয়ে পোস্ট ঘেঁষে শট নেন, গোলরক্ষক ডান দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি।
১০ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ। এজেকিয়েল পালাসিওসের রক্ষণ চেরা পাস পেয়ে নিকো পাজ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে প্রথম স্পর্শে বল জালে পাঠান। জাতীয় দলের হয়ে এটা তাঁর দ্বিতীয় গোল। বিরতির ঠিক আগে হুলিয়ান আলভারেস ৩-০ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শট গোলে রূপ নেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এল রাতের সবচেয়ে আলোচিত গোল। নিকো পাজের ফ্রি কিক থেকে দারুণ হেডে জাল কাঁপালেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। মেসির অবসরের পর স্কালোনি তাঁকেই নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করেছিলেন। আগে তিনবার অধিনায়কের দায়িত্ব সামলালেও সেগুলো আনুষ্ঠানিক ছিল না। এবার ঘরের মাঠে প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচেই গোল পেলেন তিনি।
রোমেরোর জন্য দিনটা বিশেষ হওয়ার কারণ আছে। কর্দোবার ছেলে তিনি, ১০ বছর আগে এই স্টেডিয়ামেই স্থানীয় ক্লাব বেলগ্রানোর হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ম্যাচের পর বললেন, অধিনায়ক হয়ে এখানে ফেরার কথা কখনো কল্পনাও করেননি। দায়িত্বটা বড়, তবে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে রোমেরোর পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে হেডে। এ কারণেই তাঁকে ‘হেড মাস্টার’ বলা হচ্ছে।
গ্যালারিতে ছিলেন রোমেরোর মা রোসা গঞ্জালেস, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে প্রায় ২০ জন। ম্যাচের আগে রোমেরোর চাচা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনি হেডে গোল করবেন এবং আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতবে। প্রথম অংশটি মিলেছে, দ্বিতীয়টি মেলেনি, কারণ জয় এসেছে ৪-০ ব্যবধানে। রোসা বললেন, ছেলের সাফল্যই তাঁর সাফল্য। রোমেরোর দাদিও জানালেন, পুরো পরিবার তাঁকে নিয়ে গর্বিত।
স্টেডিয়ামে আরও ছিল ১২ বছর বা তার কম বয়সী আট হাজার শিশু। কর্দোবার বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন থেকে আসা এই খুদে দর্শকদের মুখে মুখে ঘুরছিল রোমেরোর নাম।
শেষ গোলটি এল ৮৬ মিনিটে, বদলি নামা হোসে মানুয়েল লোপেসের পা থেকে। এর আগে ৮৫ মিনিটে একবার জালে বল পাঠিয়েও অফসাইডের কারণে গোল পাননি। পরের মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়ে আর ভুল করেননি। পালমেইরাসের এই স্ট্রাইকারের জন্য এটা ছিল জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল। যোগ করা সময়ে লিওনেল ফ্লোরেসের হেড ঠেকিয়ে বলিভিয়ার গোলরক্ষক ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি।
গোলের হিসাবে দেখা যায়, নতুন চক্রের শুরুতেই আক্রমণের দায়িত্ব একজনের ওপর পড়েনি। লাউতারো গোল করেছেন, নিকো পাজ গোল করিয়েছেন ও করেছেন, রোমেরো ডিফেন্ডার হয়েও গোল পেয়েছেন, আর লোপেস নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন। একসময় রক্ষণে রোমেরো আর আক্রমণে মেসিকে আর্জেন্টিনার ‘এক্স ফ্যাক্টর’ ধরা হতো। মেসির জায়গায় সেই ভূমিকা এখন নিকো পাজ নিচ্ছেন বলে আভাস মিলছে।
তবে আবেগের জায়গাটা এখনো মেসিকেই ঘিরে। রোমেরো ম্যাচ শেষে বললেন, অধিনায়ক লিওকে তাঁরা খুব মিস করবেন, তাঁর মতো আর কেউ হবে না।
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার সামনে আরও দুটি ম্যাচ। মঙ্গলবার খেলবে বুর্কিনা ফাসোর বিপক্ষে। শেষ ম্যাচ বেনিনের বিপক্ষে, ওই ম্যাচেই জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামবেন মেসি।

Hi, this is a comment.
To get started with moderating, editing, and deleting comments, please visit the Comments screen in the dashboard.
Commenter avatars come from Gravatar.