
ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বটা বাংলাদেশের জন্য শেষ হলো দুঃস্বপ্নের মতো। শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের দল। টানা তিন ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ।
আর এই হারেই ফাইনালের টিকিট পেয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তায় ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচ জিতে তারা আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনের ফাইনালে উঠেছে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না। বেশ গোছানোই দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু ১১ মিনিটে ওলে রোমেনির পাস থেকে বেকারের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া, আর সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে সফরকারীরা।
নয় মিনিট পর আবার জাল কাঁপান বেকার, ব্যবধান ২-০। ৩২তম মিনিটে রিজকি রিধোর গোলে স্কোরলাইন হয় ৩-০।
৩৬তম মিনিটে একটু আশার আলো দেখা গেল। সুকির ক্রসে হেড করে ব্যবধান কমালেন শাহরিয়ার ইমন।
কিন্তু সেই স্বস্তি টিকল মাত্র এক মিনিট। ৩৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন বেকার, ৪-১। পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ৪২তম মিনিটে, নিজের চতুর্থ গোলটিও করে ফেললেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শুরুতে জাস্টিন হাবনারের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়াল ৬-১। অর্থাৎ ৪৫ মিনিটেই ছয় গোল হজম করে বিরতিতে গেল বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রটা কিছুটা বদলায়। রক্ষণ জমাট রাখে বাংলাদেশ, গোলরক্ষকও দৃঢ়তা দেখান। ফলে ইন্দোনেশিয়ার গোলের অপেক্ষা লম্বা হতে থাকে।
এদিকে একই সময়ে চলছিল আরেকটি ম্যাচ। সেখানে মালয়েশিয়া গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালের আশা জাগিয়ে রেখেছিল। ফলে ইন্দোনেশিয়ার দরকার ছিল আরও গোল।
৯০তম মিনিটে লুক ভিক্যারির গোলে ব্যবধান বাড়ে। পরের মিনিটেই ফারহান আলি ওয়াহিদ গোল করে স্কোরলাইন করেন ৭-২।
তখন ফাইনালে যেতে স্বাগতিকদের লাগত আরও দুই গোল, আর সেটাই তারা পেয়ে যায়। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে সতীর্থের হেডে খুব কাছ থেকে হেড করে গোল করেন কেভিন ডিকস।
দুই মিনিট পর নিজের পঞ্চম ও দলের নবম গোলটি করেন বেকার। এই গোলেই ইন্দোনেশিয়ার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষ বাঁশির পর মাঠে হতাশায় নুইয়ে পড়েন হামজারা। ডাগআউটে বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলিকে দেখেও মনে হচ্ছিল, তিনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।
ম্যাচের গোলদাতাদের তালিকাটা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে বেকার করেন পাঁচটি গোল, আর একটি করে গোল করেন রিজকি রিধো, জাস্টিন হাবনার, লুক ভিক্যারি ও কেভিন ডিকস। বাংলাদেশের দুটি গোল এসেছে শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলি ওয়াহিদের কাছ থেকে।
এই আসরে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছিল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারে। দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অনেক ভালো খেললেও ১-০ গোলে হারতে হয়।
প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে হজম করা গোল ছিল চারটি। আর শেষ ম্যাচে একাই হজম করল নয়টি। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের গোল হজমের সংখ্যা তাই দাঁড়াল ১৩।
বিরতির সময় ৬-১ স্কোরলাইন দেখে অনেকের মনে পড়ছিল পুরোনো দুটি ক্ষত। ১৯৭৫ সালে মারদেকা কাপে হংকংয়ের কাছে ৯-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচোনে স্বাগতিকদের কাছে হারে ০-৯ গোলে।
এই ৯-০ হারই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। ১৯৮২ সালে ইরানের কাছেও একই ব্যবধানে হেরেছিল দলটি।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ ব্যবধানে হারের ফলে ব্যবধান হয়েছে সাত গোলের। তবে এক ম্যাচে নয় গোল হজমের সেই পুরোনো লজ্জার পাতায় আবারও নাম লিখিয়ে ফেলল বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বলছে, রক্ষণভাগ সামলানোই এখন ডুলির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই, আবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের দৃঢ়তা দেখায়, দলের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ৪৫ মিনিটের একটা ধস পুরো আসরের অর্জনকে ঢেকে দিয়েছে।
এখন সামনে অপেক্ষা ঘুরে দাঁড়ানোর। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ দল পরের টুর্নামেন্টে কতটা শক্ত হয়ে ফিরতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
